Categories
দেশ

সাত দিনের মধ্যে পুলওয়ামায় জড়িত জঙ্গীদের খতম করলো ভারতীয় সেনা.



পুলওয়ামা,জম্মু কাশ্মীর :- কিছুটা হলেও দেশবাসীর  জন্য আনন্দের সংবাদ শোনালো ভারতীয় সেনা । পুলওয়ামায় হামলার সাত দিনের  মধ্যে কাশ্মীর উপত্যকায় জইশের সব জঙ্গি নেতা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে, জানিয়েছে ভারতীয় সেনা। পুলওয়ামায় সিআরপি-র উপরে হামলা ও গত কাল জইশ জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরে আজ প্রথম বাহিনীর তরফে সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। তাতে সেনার ১৫ নম্বর কোরের কম্যান্ডার কে জে এস ধিলোঁ ছাড়াও হাজির ছিলেন জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের আইজি এস পি পানি ও সিআরপি-র আইজি জুলফিকার হাসান। ধিলোঁ জানান, পুলওয়ামায় হামলার ১০০ ঘণ্টার মধ্যে উপত্যকায় জইশের সব নেতা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে।

গত কাল সংঘর্ষে নিহত জইশ নেতার পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। প্রথমে বাহিনীর তরফে দাবি করা হয়, পুলওয়ামা হামলার মূল চক্রী রশিদ গাজ়ি নিহত হয়েছে। পরে আবার কয়েকটি সূত্র থেকে দাবি করে, নিহত হয়েছে গাজ়ির সহযোগী কামরান। কিন্তূ রাতে আবার একটি সূত্র থেকে দাবি করে, কাশ্মীরে নিহত তৃতীয় জঙ্গি রশিদ গাজ়ি হলেও হতে পারে।


আজ অবশ্য নিহত জইশ নেতাকে কামরান বলেই উল্লেখ করেছেন ধিলোঁ। তিনি বলেন, ‘‘জইশ ই মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠী হলো পাকিস্তানি সেনার সৃষ্টি। কামরান ও তার সহযোগী  সঙ্গীদের পাক সেনা ও আইএসআই নিয়ন্ত্রণ করছিল। তাই পুলওয়ামা হানাতেও যে পাকিস্তানী সেনা জড়িত তা নিয়ে সন্দেহ নেই।’’

পুলওয়ামা কাণ্ডের মূল চক্রী রশিদ গাজ়ি আফগানিস্তানে লড়াই করেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছিল।আফগানিস্তানের থেকেই রশিদ গাজী গাড়িবোমা তৈরির প্রশিক্ষণ পেয়েছিল বলেও দাবি করেন ভারতীয়  গোয়েন্দা বিভাগ । আজ এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ধিলোঁ বলেন, ‘‘এমন অনেক গাজ়ি এসেছে। যে গাজ়িই আসুক আমরা তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে তৈরি। তবে অনেক বছর পরে কাশ্মীরে গাড়িবোমা হামলা হয়েছে। সেই বিপদের মোকাবিলার কৌশল স্থির করা হচ্ছে।’’

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের আইজি এস পি পানি দাবি করেন, গত তিন মাসে কাশ্মীরি যুবকদের মধ্যে জঙ্গি দলে যোগ দেওয়ার প্রবণতা অনেক কমেছে। এছাড়া ভারতীয় সেনা চারিদিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখে কাজ করছে ।

Categories
দেশ

প্রধামন্ত্রী কিশান সমমান নিধি যোজনায় অন্তর্ভুক্ত ছোট কৃষকরা প্রতি বছর 6000 টাকা পাবে.

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল

নিজস্ব প্রতিনিধি : লোকসভা নির্বাচনের আগে কৃষক সম্প্রদায়কে আচমকা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পীযুষ গোয়ল তার বাজেট বক্তৃতায় শুক্রবার দুই হেক্টরেরও কম জমির মালিক  কৃষকদের প্রতি বছর 6,000 টাকা সরাসরি কৃষকদের দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রী কৃষক সমমান নিধি(PMKSN) ’প্রকল্পে নামে দেওয়া টাকায় প্রত্যাশিত প্রায় 12 কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা উপকৃত হবে এবং 1 ডিসেম্বার ২018 থেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কার্যকর হবে এবং এই প্রকল্পের টাকা তিনটে সমান কিস্তির মাধ্যমে কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসারি ট্রান্সফার করা হবে এবং প্রথম কিস্তির টাকা লোকসভা নির্বাচনের আগে কৃষকরা পেয়ে যাবে । এই প্রকল্পের পুরো খরচ কেন্দ্রীয় সরকার অর্থায়ন করবে। এই প্রকল্পের ফলে 1২ কোটি কৃষক পরিবার উপকৃত হবে। প্রকল্পের তালিকা প্রস্তুত করার পরেই প্রথম কিস্তির টাকা কৃষকদের দেওয়া হবে, বলেন পীযূষ গোয়েল।


এই প্রকল্পটির জন্য সরকার প্রতি বছর 75,000 কোটি টাকা খরচ করবে।গোয়েল বলেন যে, এই আর্থিক বছরের জন্য 20,000 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। PMKSN প্রকল্পের পাশাপাশি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান MGNREGA প্রকল্পের জন্য 60,000 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বলাবাহুল্য, প্রতিটি কৃষকের কাছে 6,000 টাকা দেওয়া হলে মোট ব্যয় 75,360 কোটি টাকা হবে।

ধারণা করা হচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার ওডিশা সরকারের ‘Kalia’ প্রকল্পের পরিকল্পনা মতো একই সনাক্তকারী সুবিধাভোগী চাষীদের কাছে একটি ফ্ল্যাট ক্যাশ ট্রান্সফার ঘোষণা করতে পারে বা তেলআঙ্গানার ‘Rythu Bandhu’ প্রকল্পের মতো প্রতি একর জমির ভিত্তিতে ভিত্তি করেও  টাকা দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কিশন সমমান নিধি(PMKSN) তেলঙ্গানা সরকারের Rythu Bandhu প্রকল্পের পরিকল্পনার একটি সংশোধন মাত্র, যা প্রতি একর ভিত্তিতে (প্রতি বছরে প্রতি একর প্রতি 8000 টাকা) সহায়তা প্রদান করে, যা কোন নির্দিষ্ট ধারণার ছাড়াই।
Categories
দেশ

আবার বিষমদ কাণ্ডে জর্জরিত যোগীর উত্তরপ্রদেশ,মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদন: পশ্চিমবঙ্গের বিষমদ কাণ্ডের ভয়াবাহ রূপ ভারতবাসি এখনো ঠিকমতো ভোলেনি তার উপর  উত্তর প্রদেশ এর বিষমদ কান্ড ভারত বাসির মনে ভয়ানক ভীতির সৃষ্টি করেছে ! ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের সাহারনপুর ও কুশিনগর এলাকায়। বিষমদ কাণ্ডে গত ৪ দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৬ জন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আর কমপক্ষে ৩০ জন। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন প্রশাসন। উত্তর প্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিম উত্তর প্রদেশের সাহারনপুরে ৩৮ এবং পূর্ব উত্তর প্রদেশের কুশিনগরের ৮ জনের এই মুহূর্তে মৃত্যুর খবর মিলেছে । যারা বিষমদ কাণ্ডে মারা গেছেন তাদের প্রত্যেকের ২ লাখ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য 50,000 টাকা অনুদানের ঘোষণা করেছেন,মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

উত্তর প্রদেশ পুলিসের দাবি, প্রতিবেশী রাজ্য উত্তরাখণ্ড থেকেই আসে এই মদ। পুলিসের দাবি, উত্তরাখণ্ড থেকেই আসা ওই মদ সাহারনপুরে বিক্রি করা হয়েছে। অন্যদিকে, যে রাজ্যে মদ বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ সেই বিহার থেকে নাকি কুশিনগরে মদ পাচার হয় বলে অভিযোগ তোলে যোগীর পুলিস। সাহরনপুরের জেলাশাসক একে পাণ্ডে বলেন, “দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে হয়ত মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যেত। পিন্টু নামে এক অভিযুক্ত ৩০টি চোলাই প্যাকেট নিয়ে সাহরনপুরে বিক্রি করে। দু’একটি প্যাকেট উদ্ধার করা গিয়েছে।”

এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে যোগী আদিত্য নাথের সরকার । শুরু হয় বেআইনি মদের দোকান ভাঙার অভিযান। সাহারনপুরের এসপি দিনেশ কুমার জানান, দুই রাজ্যের সীমান্তে উপর  কড়া নজর রাখা হচ্ছে। খোঁজ চলছে বিষমদের প্রস্তুতকারীসহ বিক্রেতাদের । মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে বেআইনি মদ প্রস্তুত এবং বিক্রিতে লাগাম টানা হচ্ছে। কুশিনগরের জেলা আবগারি ইনস্পেকটর-সহ একাধিক অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। সূত্রে খবর, বেশ কিছু পুলিস অফিসারকে বরখাস্ত করেছে যোগী সরকার। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জনের গ্রেফতার করেছে পুলিস।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের পর উত্তর প্রদেশে এমন ৮টি বিষমদ কাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ১৭৭ জনের। কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিপুর, সংগ্রামপুর সহ বিভিন্ন এলাকায়  বিষমদে মৃত্যু হয় কয়েকশো জনের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতা আসার পরপরই ২০১১ সালে ভয়াবহ বিষমদ কাণ্ডে প্রাণ হারায় কমপক্ষে ১৭৩ জন। সে সময় পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয় মমতা সরকার।