প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অধীর চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিনিধি :- উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরের ডাক্তার কাফিল খানের মুক্তির দাবিতে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কে চিঠি লিখলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর লেখা চিঠিতে অধীর চৌধুরী দাবি করেন , কাফিল খানের বিরুদ্ধে অনবরত অন্যায় করছে সরকার। অবিলম্বে কাফিল খানের বিরুদ্ধে সুবিচার নিশ্চিত করুন। জেলে তাঁর দুঃসহ পরিস্থিতির কথাও চিঠিতে তুলে ধরেন অধীরবাবু।

কাফিল খানের বিষয়ে লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টিতে দৃষ্টগোচর করার জন্য অনুরোধ করেছেন অধীরবাবু । সিএএ এর বিরুদ্ধে পতিবাদ করায়, জাতীয় সুরক্ষা  আইন প্রয়োগের নামে চিকিৎসক কাফিল খানের সাথে অবিচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অধীর।

তিনি কাফিল খানের মুক্তির দাবিতে তিনি বলেন যে, “জনবিরোধী CAA এর প্রতিবাদ আমিও করেছি, আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ করেছেন, কিন্তু সেই অপরাধে তো আমার বা অন্যদের বিরুদ্ধে NSA বা জাতীয় সুরক্ষা আইন-বলে আটক করা হয়নি, তাহলে ডাঃ কাফিল খান কে কেন? এই অবিচার ও বৈষম্য -এর দ্বারা কখনো রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না”।




কংগ্রেস দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, CAA-র বিরুদ্ধে কংগ্রেস সংসদের ভিতরে ও বাইরে সবসময় লড়াই করে গেছেন। তিনি নিজেও করেছেন, অনেকেই করেছেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোনো জাতীয় সুরক্ষা আইন জারি করা হয়নি।


উত্তর প্রদেশের একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স কাফিল খানকে মুম্বাই থেকে গ্রেফতার করেন। সারা দেশ জুড়ে যখন CAA বিরোধী আন্দোলন চলছিল. ঠিক সেইসময় কাফিল খান আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে 12 ডিসেম্বর 2019 এ ভাষণ দিয়েছিলেন। সরকারের অভিযোগ কাফিল খানের আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষণ ছিল ধর্মবিদ্বেষ মূলক এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিতর্ক মন্তব্য . তাই 13 ডিসেম্বর 2019 উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কাফিল খানকে গ্রেপ্তার করেন .


গ্রেফতারির পর ডাক্তার খানকে আলিগড়ে নিয়ে আসা হয় এবং তাঁকে মথুরা জেলে বন্দী করা হয়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি 2020 তাকে  আলিগড় কোর্ট জামিন দেন কিন্তু জেল-কর্তৃপক্ষ তাঁকে মুক্তি দেয়নি। এর তিন দিন পর ১৩ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশ সরকার জাতীয় নিরাপত্তা আইনে তাঁকে নতুন ভাবে আবার গ্রেফতার করে।

তাঁর কারাবাসের মেয়াদ তিন মাস পূর্ণ হওয়ার পর ১২ মে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন ডাক্তার কাফিল খানের আটক থাকার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে দেয়। NSA বা জাতীয় সুরক্ষা  আইনের বলে ৬ মাসের জন্য গ্রেফতার করা হয় কাফিল খানকে , যার মধ্যে তিন মাস তাঁর কারাবাস করা হয়ে গেছে l বলাবাহুল্য, এই আইনে এক বছর পর্যন্ত বিনা বিচারে কাউকে আটক করে রাখা যায়।


0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *