আবার বিষমদ কাণ্ডে জর্জরিত যোগীর উত্তরপ্রদেশ,মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬


নিজস্ব প্রতিবেদন: পশ্চিমবঙ্গের বিষমদ কাণ্ডের ভয়াবাহ রূপ ভারতবাসি এখনো ঠিকমতো ভোলেনি তার উপর  উত্তর প্রদেশ এর বিষমদ কান্ড ভারত বাসির মনে ভয়ানক ভীতির সৃষ্টি করেছে ! ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের সাহারনপুর ও কুশিনগর এলাকায়। বিষমদ কাণ্ডে গত ৪ দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৬ জন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আর কমপক্ষে ৩০ জন। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন প্রশাসন। উত্তর প্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিম উত্তর প্রদেশের সাহারনপুরে ৩৮ এবং পূর্ব উত্তর প্রদেশের কুশিনগরের ৮ জনের এই মুহূর্তে মৃত্যুর খবর মিলেছে । যারা বিষমদ কাণ্ডে মারা গেছেন তাদের প্রত্যেকের ২ লাখ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য 50,000 টাকা অনুদানের ঘোষণা করেছেন,মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

উত্তর প্রদেশ পুলিসের দাবি, প্রতিবেশী রাজ্য উত্তরাখণ্ড থেকেই আসে এই মদ। পুলিসের দাবি, উত্তরাখণ্ড থেকেই আসা ওই মদ সাহারনপুরে বিক্রি করা হয়েছে। অন্যদিকে, যে রাজ্যে মদ বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ সেই বিহার থেকে নাকি কুশিনগরে মদ পাচার হয় বলে অভিযোগ তোলে যোগীর পুলিস। সাহরনপুরের জেলাশাসক একে পাণ্ডে বলেন, “দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে হয়ত মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যেত। পিন্টু নামে এক অভিযুক্ত ৩০টি চোলাই প্যাকেট নিয়ে সাহরনপুরে বিক্রি করে। দু’একটি প্যাকেট উদ্ধার করা গিয়েছে।”

এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে যোগী আদিত্য নাথের সরকার । শুরু হয় বেআইনি মদের দোকান ভাঙার অভিযান। সাহারনপুরের এসপি দিনেশ কুমার জানান, দুই রাজ্যের সীমান্তে উপর  কড়া নজর রাখা হচ্ছে। খোঁজ চলছে বিষমদের প্রস্তুতকারীসহ বিক্রেতাদের । মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে বেআইনি মদ প্রস্তুত এবং বিক্রিতে লাগাম টানা হচ্ছে। কুশিনগরের জেলা আবগারি ইনস্পেকটর-সহ একাধিক অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। সূত্রে খবর, বেশ কিছু পুলিস অফিসারকে বরখাস্ত করেছে যোগী সরকার। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জনের গ্রেফতার করেছে পুলিস।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের পর উত্তর প্রদেশে এমন ৮টি বিষমদ কাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ১৭৭ জনের। কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিপুর, সংগ্রামপুর সহ বিভিন্ন এলাকায়  বিষমদে মৃত্যু হয় কয়েকশো জনের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতা আসার পরপরই ২০১১ সালে ভয়াবহ বিষমদ কাণ্ডে প্রাণ হারায় কমপক্ষে ১৭৩ জন। সে সময় পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয় মমতা সরকার।

Comments