এবছর দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেতে চলেছেন বলিউড বাদশা অমিতাভ বচ্চন.

                        অমিতাভ বচ্চন


নিজস্ব প্রতিনিধি :- ভারতীয় চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এবছরে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেতে চলেছেন অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন৷দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার হল ভারতের চলচ্চিত জগতের সর্বশেষ্ট সম্মান৷  মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর এই খবর প্রকাশ করেন৷ টুইটারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লেখেন, ‘‘ভারতের দুই প্রজন্মকে দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন দিচ্ছেন এবং উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন অমিতাভ বচ্চন, সেইজন্য সর্বসম্মতভাবে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি৷ সমগ্র দেশের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক মহল এই সিদ্ধান্তে খুশি৷ আমিও তাঁকে মন থেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি৷’
চারবার জাতীয় পুরস্কার জয়ী ৭৬ বছরের অমিতাভ বচ্চনের সিনেমা কেরিয়ার পাঁচ দশক পেরিয়ে এখনও এগিয়ে চলছে। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও আজও তিনি সমান সাবলীল। বলিউড তাঁকে ‘বিগ বি’ তকমা দিয়েছে।বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই শিরোপা পাওয়ায় স্বভাবতই খুশি তাঁর অনুরাগীরা৷এই ঘোষণা শুনেই অভিষেক বচ্চনের টুইট, ‘ওভারজয়েড অ্যান্ড সো সো প্রাউড’! এমনকি গায়িকা লতা মঙ্গেস্কর,অভিনেতা অনিল কাপুর,রাজনীকান্ত থেকে শুরু করে পরিচালক সুজিত সরকার, মধুর ভান্ডারকর, সকলেই ‘বিগ বি’কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন৷ সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন অভিনেতার অনুরাগীরা৷ তাঁর আগে এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন বিনোদ খন্না, শশী কপূর, প্রাণ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মহান অভিনেতারা।

১৯৬৯-তে বিখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেনের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি ‘ভুবন সোম’এ কথক হিসাবে চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন৷প্রথম ১৯৬৯ সালে ‘সাত হিন্দুস্তানি’ছবিতে অভিনয় করেন। তবে পরিচিতি মেলে ১৯৭১ সালের ‘আনন্দ’ থেকে। এই সিনেমার জন্য সেরা পার্শ্ব চরিত্রাভিনেতা হিসাবে ‘ফ্লিমফেয়ার’পুরস্কার পান। ১৯৭৩ সালের ‘জঞ্জির’ সিনেমা তাঁকে বলিউডের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ হিসেবে চিহ্নিত করে৷এরপর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি৷ একের পর এক হিট, ব্লকবাস্টার, সুপারহিট সিনেমা  ‘শোলে’, ‘দিওয়ার’, ‘ডন’, ‘অগ্নিপথ’ হয়ে হালফিলের ‘পিকু’ বিভিন্ন সিনেমা ভারতীয় দর্শকদের উপহার দেন অমিতাভ বচ্চন৷ অভিনয় জগতে মন জয় করে নেন, দেশ তথা বিদেশের দর্শকদের৷ বলিউডের এমন কোনও পুরস্কার নেই, যা তাঁর ঝুলিতে নেই৷

১৯৮৪-তে ভারত সরকারের তরফে তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান দেওয়া হয়৷ এরপর ২০০১-এ ‘পদ্মভূষণ’ এবং ২০১৫-তে ‘পদ্মবিভূষণ’ পান৷ ২০০৭-এ ফ্রান্স সরকারের তরফে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘নাইট অফ দি লেজিয়ন অফ  অনার’ সম্মান প্রদান করা হয় তাঁকে৷এত বছর বয়সেও সমান ভাবে কাজ করে চলেছেন এবং দর্শকদের একের পর এক হিট ছবি উপহার দিচ্ছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই লিভিং লেজেন্ট৷

Comments