তেলেঙ্গানা মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও

হায়দাবাদ :-  লাদাখ সীমান্তে গলওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনার সঙ্গে যে সংঘর্ষ হয়েছিল সেখানে ২০ জন ভারতীয় সৈনিক শহিদ হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন কর্নেল সন্তোষ বাবু । তাঁর বিধবা স্ত্রী সন্তোষী দেবীকে ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে নিয়োগ করল তেলেঙ্গানা সরকার। তাঁর হাতে অ্যাপয়েন্ট লেটার বা নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি কর্নেলের পরিবারকে একটি ১০ কোটি টাকা দামের জমিও উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি টাকার ভাতাও। 

তেলেঙ্গানা মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও

গত ১৫ জুন পূর্ব গালওয়ানে ভারত চীন সীমান্তে সেনাদের সংঘর্ষে সন্তোষ বাবুর মৃত্যু হয় । সন্তোষ বাবু ছিলেন ১৫ নাম্বার বিহার রেজিমেন্ট এর কমান্ডিং অফিসার কর্ণেল ।সন্তোষ বাবুর মৃত্যুর কয়েকদিন পর গত ২২ জুন তাঁর বাড়িতে দেখা করতে যান তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী, তখনই তাঁর স্ত্রী সন্তোষীকে সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। সেই মতো তাঁকে ডেপুটি কালেক্টরের পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার তেলেঙ্গানার প্রগতি ভবনে শহিদ কর্নেলের গোটা পরিবারের উপস্থিতিতে সন্তোষীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি হায়দরাবাদের কেবিআর পার্কের কাছে ৭১১ বর্গফুটের একটি আবাসন জমিও দান করা হয়েছে শহিদ-পত্নীকে। যার বর্তমানে মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। ওই জমির দলিলপত্র সন্তোষীর হাতে তুলে দেন হায়দরাবাদের কালেক্টর শ্বেতা মোহান্তি। তারপরে মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, হায়দরাবাদ বা তার আশপাশে কোথায় পোস্টিং দিতে সন্তোষীকে। তাঁর কাজে সুবিধার জন্য সচিব স্মিতা সাবারওয়ালকে সবরকম সাহায্যেরও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

প্রথমে কমার্শিয়াল ট্যাক্স অফিসারের পোস্ট অফার করা হয়েছিল শহীদ পত্নীকে,কিন্তু তিনি জানান, গ্রুপ ওয়ান স্তরের ডেপুটি কালেক্টরের পদ গ্রহণে আগ্রহী। তাঁর আবেদন মেনে নেয় তেলেঙ্গানা সরকার। 

বুধবার প্রগতি ভবনে শহিদ কর্নেল সন্তোষ বাবুর পরিবারের ২০ জন সদস্যের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি কুশল বিনিময় করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছিলেন চিফ সেক্রেটারি সোমেশ কুমার, ডিজিপি এম মহেন্দর রেড্ডি, মুখ্য উপদেষ্টা রাজীব শর্মা। ছিলেন জগদীশ রেড্ডি, প্রশান্ত রেড্ডি, নিরঞ্জন রেড্ডি-সহ তেলেঙ্গানার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা। তারা সকলেই আশ্বাস দেন, শহিদ কর্নেলের পরিবারের পাশে সবসময় রয়েছে তেলেঙ্গানা সরকার। 

আগেই সন্তোষ বাবুর পরিবারের জন্য ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিলেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও।তবে

চিন সীমান্তে শহিদ হয়া বাকি ১৯ জওয়ানের পরিবারকেও ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মাধ্যমে ওই টাকা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।


0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *